বরিশালে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ডেঙ্গু, প্রতিরোধে নেই কার্যকর ব্যাবস্থা!

খবর বাংলা ডেস্কঃখবর বাংলা ডেস্কঃ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:47 PM, 06 August 2023

রুপন কর অজিতঃ বরিশালে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই নগরীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে গড়ে প্রায় শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে।তবে বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়ে চললেও ডেঙ্গু মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে নেই কোনো উদ্যোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে,করনাকালিন সময় মাঠপর্যায়ে সম্মিলিতভাবে যে ধরনের কার্যক্রম ছিল, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন একই ধরনের পদক্ষেপ দরকার। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার কোনো বিকল্প নেই বলে ধারনা করছেন তারা।

তথ্যমতে,স্বাস্থ্য বিভাগ পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলায় স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করেছে ।তবে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার উৎস কোথায় বা এডিসের লার্ভা আছে কি না সে ব্যাপারে এখনও কোন অনুসন্ধান চালানো হয়নি।

জানাযায়,বরিশাল সিটি করপোরেশনে লার্ভা শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব ও কীটতত্ত্ববিদের কোনো পদ নেই।স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সহায়তায় কাজটি সম্পন্ন করে সিটি করপোরেশন।এ বছর এখনো এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানান বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগ।

তবে এক বিশেষ সুত্রে জানাযায়,এডিসের লার্ভার অস্তিত্ব শনাক্তের জন্য আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগে করা হলেও ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।এদিকে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা  করে তথ্য সংগ্রহ না করায় আক্রান্তদের সংখ্যা সঠিক ভাবে জানা যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪৮ জন। এই ২৪ ঘণ্টায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬, পটুয়াখালী জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ৪৭, পিরোজপুরে ৬০, বরগুনায় ৩৬ ও ভোলায় ৪১,ঝালকাঠিতে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গতকাল নতুন-পুরোনোসহ বরিশাল বিভাগের সব হাসপাতাল মিলিয়ে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন ৯১৬ জন। এর মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন ২০১ জন।
গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক বৃষ্টি ও জোয়ারে পানির চাপ বেশি থাকার কারনে নগরীর ওয়ার্ডগুলোতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছে।এতে মাশার উৎপাত বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, দিন-রাত বুঝিনা ডেঙ্গু রোগীদের সব সময় মশাড়ির মধ্যে থাকতে হবে। প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় কাজ করছেন ডাক্তার ও নার্সরা। আমরা বল প্রয়োগ করতে পারিনা, আমাদের কাজ শুধু জানানোর তবে সকলের মাঝে সচেতনতার মনোভাব তৈরি হয় তাহলে আমরা ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাবো খুব সহজেই।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন,ডেঙ্গু মশার লার্ভা শনাক্তের মেশিন আমাদের না থাকায় আমার সকল প্রকার মশার লার্ভা শনাক্ত করে ঐ সব স্থানে মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা ৭০-৮০% কার্যকর।তিনি আরো বলেন,এখন প্রতিদিন বৃষ্টি থাকার কারনে হ্যান্ড স্প্রে কাজ করবে না বিধায় আমরা ফগারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন,সিটি করপোরেশনে বর্ধিত এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা নেই বলে আমি মনে করি।তারপর ও আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৭-৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে যারা প্রতিদিন গভীর ড্রেন, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন ও ঝোপঝাড় পরিস্কার করে চলেছে।এছাড়া হ্যান্ড স্প্রে ও ফগার ব্যাবহার করে মশার লার্ভা নিধনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।তিনি আরো বলেন,যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে তাদের অধিকাংশই বরিশাল সিটির বাহির থেকে এসেছেন।

উল্লেখ্য গত জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত এই বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৭ হাজার ৮ জন।

আপনার মতামত লিখুন :